বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয় ঋতুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্ষাকাল। প্রাকৃতিকভাবে
বর্ষাকাল যেমন একটি সুন্দর ও মনোরম ঋতু; ঠিক তেমনি বর্ষাকাল ফুল, ফল,
শাকসবজি ও বিভিন্ন প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ রোপনের একটি উপযুক্ত সময়।
বর্ষাকাল বিশেষ করে শাকসবজি উৎপাদনের জন্য একটি আদর্শ সময়। সঠিকভাবে পরিচর্যা
করতে পারলে নিজের চাহিদা মেটাবার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব।
তাই আজকে আমরা বর্ষাকালের শাকসবজি ও পরিচর্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পেজ সূচিপত্রঃ কম খরচে বর্ষাকালের সেরা কয়েকটি সবজির চাষ
লাউ বছরের প্রায় সব সময় চাষ হতে দেখা গেলেও বর্ষাকাল হলো লাউ চাষের সবচেয়ে
উপযুক্ত সময়। সঠিক বীজ নির্বাচন, বপন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে লাউ চাষ করে লাভবান
হওয়া যায়। লাউ চাষ করতে মূলত উর্বর বেলে মাটির প্রয়োজন হয়। ঝরঝরে মাটি এবং
একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পি এইচ (৬-৮) রাখতে হয়। লাউ সাধারণত গরম ও আর্দ্র মাটিতে
ফলন ভালো হয়। লাউ চাষ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উপযুক্ত জাত
নির্বাচন করা। বারি ১ বারি ২ এবং বারি ৪ হল লাউয়ের উন্নতমানের জাত।
লাউ চাষ করার একটি উন্নত মানের পদ্ধতি হলো টিস্যু পেপার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে
লাউয়ের বীজগুলোকে আগে থেকে পানির মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হয় এরপরে টিস্যু পেপার
দিয়ে মুড়িয়ে কিছুদিন রাখতে হয়। পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বীজগুলো রোপন করার
জন্য উপযুক্ত হয়ে যায়। সার প্রয়োগঃ লাউ চাষে প্রধানত এমওপি ইউরিয়া সার
জিংক ম্যাগ্নেসিয়াম এবং জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়।
পরিচর্যাঃ লাউ গাছে সাধারণত বিটুল পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে এর ফলে পোকাগুলো গাছের
পাতা খেয়ে ফেলে, এর থেকে পরিত্রাণ পেতে কেরোসিন মিশ্রিত পানি স্প্রে করা এবং
সম্ভব হলে মশারি দিয়ে ঢেকে ফেলা। পানি সেচঃ লাউ গাছে সাধারণত.৭ থেকে ১০ দিন পর
পর পানি সেচ দিতে হবে এবং খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোন ভাবে জলাবদ্ধতা
সৃষ্টি না হয়। এবং উন্নত মানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে ১৫ দিন পর পর স্যার প্রয়োগ
করতে হবে।
রোগ এবং প্রতিকারঃ লাউ গাছের অন্যতম একটি রোগ হচ্ছে পাউডার রোগ। এছাড়াও আরেকটি
রোগ আছে এই রোগটি হল পাতার কালার চেঞ্জ হয়ে হলুদ রঙের হয়ে যায় এবং গাছ গোড়া
থেকে মরে যেতে শুরু করে। এর থেকে পরিত্রান পেতে গাছের যে অংশগুলো আক্রান্ত হয়েছে
সেগুলোকে তুলে ফেলে আলাদা করে ফেলে দিতে হবে এবং জৈব স্যার স্প্রে করতে
হবে।
বর্ষাকালে ঢেঁড়স বা ভেন্ডি চাষ
গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে অন্যতম আরেকটি জনপ্রিয় সবজি হচ্ছে ঢেড়স বা ভেন্ডি।
ঢেঁড়স সাধারণত উর্বর বেলে মাটি, যেখানে রোদ ভালো পায় এবং পানি জমে না এমন
জায়গায় চাষের জন্য যোগ্য। ঢেঁড়সের কয়েকটি উন্নত মানের জাত হল, অভিজাত, আশা,
কমল, কাঞ্চন, সুমি, শাওমি এবং গ্রিন ফিঙ্গার।
চাষের পদ্ধতিঃ ঢেড়সের চারা রোপণের আগে মাটি তৈরি করে নিতে হবে সেক্ষেত্রে দুই
থেকে তিনটি চাষ দিতে হবে এবং আগাছা বেছে মাটি ভর ভরে করে নিতে হবে। সবার প্রথমে
একটি ভাল জাতের বীজ নির্বাচন করতে হবে এরপরে একটি পাত্রে বীজগুলো রেখে পানি
দিয়ে এক থেকে দুই দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর একটি শুকনো নেকড়া দিয়ে সেই
বীজগুলো চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য শুষ্ক স্থানে মুড়িয়ে রাখতে হবে। এভাবে চার
থেকে পাঁচ দিন পর বীজ অঙ্কুরিত হবে।
বপন পদ্ধতিঃ ঢেঁড়সের চারা সাধারণত সারি সারি করে বপন করতে হয়। একটি শারি থেকে
অপর সারীর দূরত্ব দুই ফিট এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব কমপক্ষে এক ফিট হতে
হবে। একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বীজ বপন করা হয়ে গেলে সেগুলোকে মাটি
দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। সার প্রয়োগঃ ভেন্ডি চাষে সাধারণত টিএসপি এমওপি ও গোবর সার
ব্যবহার করতে হয়।
করোলা চাষ
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সবজির মধ্যে বিশেষ একটি হলো করলা। বর্তমানে এই সবজির
চাহিদা দিনকে দিন বাড়তেই আছে। খুব সহজেই করলা চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া
সম্ভব। করলা চাষের জন্য মূলত বেলে দোয়াশ মাটি প্রয়োজন।
জাত নির্বাচনঃ জাত নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেননা ভালো জাত মানে ভালো
ফসলের সম্ভাবনা। করলার সবচেয়ে উন্নত মানের একটি জাত হলো বস জাত। এই জাতের করোলা
উৎপাদন করে অনেকে লাখপতি বনে গেছেন। চাষ পদ্ধতিঃ করলা বীজ রোপন করে চাষ করা যায়
আবার সরাসরি করলা চারা রোপন করেও চাষ করা যায়। তবে সবচেয়ে উন্নত মানের এবং কম
খরচে অধিক লাভযোগ্য একটি পদ্ধতি হল বেড পদ্ধতি।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের জন্য বেড পদ্ধতি ব্যবহার করে করলা চাষ স্বল্প খরচ এবং
অধিক লাভের জন্য প্রসিদ্ধ। বে্ড পদ্ধতিতে একটি চারা থেকে দূরত্ব আড়াই থেকে তিন
ফিট হওয়া বাঞ্ছনীয়। সার প্রয়োগঃ করলা চাষে সাধারণত ইউরিয়া টিএসপি এবং জৈব সার
ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া কিছুদিন পরপর জৈব সার স্প্রে করলে করলা গাছের থেকে
পোকামাকড় আক্রমণ হ্রাস পায়।
বর্ষাকালে বরবটি চাষ
বর্ষাকালে বরবটির চাষ বেশ লাভজনক কারণ বর্ষাকালে সবজির চাহিদা অনেক বেশি পরিমাণে
থাকে তবে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতা বরবটি চাষের জন্য বড়
চ্যালেঞ্জ তবে কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করে যদি এই বিরূপ আবহাওয়া মোকাবেলা
করা যায় তাহলে বরবটি চাষ করে আর্থিকভাবে সফল হওয়ার উপযুক্ত সময় হলো
বর্ষাকাল।বরবটি চাষের জন্য উর্বর দো-আসলা মাটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
এছাড়াও যেহেতু বর্ষাকালে বরবটি চাষ করার জন্য আমরা কথা বলছি সে ক্ষেত্রে খেয়াল
রাখতে হবে বরবটি গাছের আশেপাশে কোনোভাবেই যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়। সে
ক্ষেত্রে চারা রোপন করার জন্য উচা জমি বেছে নিতে হবে। বরবটির দুটি উন্নত মানের
জাত হল বারি বরবটি ১ এবং ভিগরনাট। জমি তৈরিঃ বরবটি চাষ করার জন্য চারা রোপনের
পূর্বে ভালোভাবে চার থেকে পাঁচটি চাষ বা মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করে নিতে হবে।
পোকার আক্রমণঃ বরবটি গাছে সাধারণত বিভিন্ন প্রকার পোকার আক্রমণ দেখা যায়
এর ফলে গাছের পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং ফল পড়ে যায়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য
পোকা হলো জব পোকা, সুরঙ্গ কারি পোকা এবং কাঁঠাল বোকা। এ সকল পোকা থেকে বরবটি
গাছকে সুরক্ষা দিতে বালাইনাশক স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। অমিতাভ অথবা টিডো
সাত থেকে দশ মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে সকালে অথবা সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে দুই
থেকে তিনবার ব্যবহার করতে হবে।
সার প্রয়োগঃ বরবটি গাছে কমপোট, ইউরিইয়া, টিএসপি পটাশ এবং জিপসাম সার
ব্যবহার করতে হয়। প্রতি শতকে কমর্ট দেড় কেজি ইউরিয়া ১০০গ্রাম টিএসপি ৩৬০ গ্রাম
পটাশ ২৪০ গ্রাম এবং জিপসাম ২০ গ্রাম ব্যবহার করতে হবে। সুতরাং বর্ষাকালে
সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে বরবটি চাষ করে অনেক সাফল্য লাভ করা সম্ভব।
লাভজনক শসা চাষ
বর্ষাকালে শসা অনেক লাভজনক ফসল। সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে শসা উৎপাদন করে
অনেক টাকা উপার্জন করা সম্ভব। তবে অন্যান্য ফসলের মতোই বর্ষাকালে শসা উৎপাদন করার
ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থেকে যায়, সেটা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। তাই শসা চাষের জন্য
জমি নির্বাচন করার পূর্বে এই বিষয়ে নজর দিতে হবে যাতে কোনভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
না হয় বা গাছের গোড়ার নিচে পানি না জমে। শসা চাষ করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো
মাদা আকারে চাষ করা।
শসা চাষের জন্য জমি তৈরি করার আগে তিন থেকে চারটি চাষ দিতে হবে এরপর শসা
চাষের জন্য তৈরি করতে হবে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় শসা চাষে একটু বেশি পরিচর্যা
করার প্রয়োজন হয়। তাই শসা গাছে বিভিন্ন রোগ আক্রমণ থেকে বাঁচাতে নির্দিষ্ট
পরিমাণ রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয। শসা গাছের জমিতে
প্রত্যেক বিঘার জন্য ১০ কেজি ফসফেট ৫ কেজি পটাশ পাঁচ কেজি ইউরিয়া এক কেজি ছত্রাক
নাশক এবং এক কেজি জিংক প্রয়োগ করতে হবে।
শসা চারা গাছে কীটনাশক তথা জীবাণু আক্রমণ করার প্রবণতা অনেক বেশি তাই স্প্রে করার
প্রয়োজন পড়ে কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি রয়েছে যে আমরা কতদিন পরপর
স্প্রে করব। আপনাদের সুবিধার্থে আজকে সেটি পরিষ্কার করে দিচ্ছি। শসার চারা রোপন
করার তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হয়। প্রতি লিটার পানিতে ২
গ্রাম সানোক্সানিল এবং ১৬ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম প্রোক্লেম মিশ্রিত করে স্প্রে
করতে হবে।
এরপর চারা গাছের বয়স যখন ছয় থেকে দশ দিন তখন ইকামাইট এবং টিটো কেমিক্যাল
প্রতি লিটারে এক মিলি হিসেবে মিশ্রিত করে স্প্রে করতে হবে। আপনি এই কেমিক্যাল
গুলো আপনার এলাকার বাজারের কীটনাশকের দোকানে পেয়ে যাবেন। সুতরাং আমরা দেখতে
পাচ্ছি শসা চাষের ক্ষেত্রে পরিচর্যার দিকে একটু বেশি নজর রাখতে হয় না হলে
আশারুরুপ ফল পাওয়া নিয়ে দোদুল্যতা তৈরি হতে পারে। তবে যদি নিয়ম মেনে আধুনিক
উপায়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে পরিচর্যা করা যায় তাহলে শসার বাম্পার ফলন
অবশ্যই আশা করা যায়।
চালকুমড়ার চাষ
বর্ষা মৌসুমের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও লাভজনক একটি সবজি হল চালকুমড়া। চাল কুমড়ার
চাষাবাদ করতে উৎপাদন খরচ কম হয় কিন্তু এখান থেকে অনেক লাভবান হওয়া যায়।
বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চাল কুমড়া চাষাবাদের উদ্দেশ্যে জমিতে মাচা তৈরি করে চাল
কুমড়া চাষ করা হ। চালকুমড়া চাষে নিয়মিত পরিচর্যা করলে উৎপাদন আরো বহুগুনে
বৃদ্ধি পায়। চাল কুমড়া চাষে কাটিং পদ্ধতি বিশেষ গুরুত্বপূর্চা।
চাল কুমড়ার গাছের শাখা কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যেমন ওয়ান জি, টু
জি, থ্রিজি এবং ফোর জি অর্থাৎ জেনারেশন ওয়াইজ শাখা ভাগ করা হয়। ওয়ান জি শাখাতে
সাধারণত স্ত্রী ফুল থাকে না টুজি শাখাতেও স্ত্রী ফুল থাকে না থ্রিজি শাখাতে ৭৫
শতাংশ স্ত্রী ফুল আসে এবং অবশেষে ফোরজি শাখায় শতভাগ স্ত্রী ফুল দেখা যায়। এখানে
আমাদের কাজ হল প্রথম জি এবং দ্বিতীয় জি শাখার মাথা ছিঁড়ে ফেলা বা কাটিং করে
দেওয়া, তাহলে সেখান থেকে নতুন শাখা বের হবে যেগুলোতে স্ত্রী ফুল হওয়ার সম্ভাবনা
শতভাগ।
চালকুমড়া গাছের গোড়াই গোড়ায় বিশেষ যত্ন নিতে হয়। বিশেষ করে সেখানে যদি মরা
পাতা থাকে তাহলে তুলে ফেলে দিতে হবে এবং গাছের গোড়া যাতে সব সময় আলো বাতাস পায়
সেটি নিশ্চিত করতে হবে। চাল কুমড়ার গাছের গোড়ায় 200 গ্রাম পানির মধ্যে পাঁচ
গ্রাম ভিটামিন মিশ্রিত করে গোড়ার আশেপাশে ঢেলে দিতে হবে এবং পটাশ 200 গ্রাম
পানিতে চার থেকে পাঁচ গ্রাম মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে পরিচর্যা করতে পারলে
অল্প সময়ে অধিক ফল আশা করা যায়।
পুঁইশাক চাষ
কম খরচে লাভজনক ফসলের মধ্যে পুঁইশাক অন্যতম। পুঁইশাক সাধারণত লতা জাতীয় ফসল এবং
বর্ষাকালে চাষাবাদ এর জন্য অত্যন্ত উপযো। তবে বরাবরের মতোই খেয়াল রাখতে হবে
পুঁইশাকের গোড়ায় যাতে পানি না জমে যায়। পুঁইশাক দুইভাবে চাষ করা যায়, সরাসরি
বীজ বপন করে এবং অঙ্কুরিত চারা রোপন করে। পুঁইশাক বপন করার আগে মাটি তৈরি করে
নিতে হবে সে ক্ষেত্রে আগে একটি চাষ দিতে হবে এবং এরপর পরপরই জৈব সার প্রয়োগ করতে
হবে।
পুঁইশাক সারি সারিভাবে রোপন করলে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। ঘন ঘন ভাবে লাগানো থেকে
বিরত থাকতে হবে কারণ অধিক ঘন ঘন হলে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে না। পুইশাকের
ডগায় সরাসরি পানি না দিয়ে গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। আমরা অনেক সময় চিন্তিত
হয়ে পড়ি যে পুঁইশাক চাষাবাদে কি ধরনের সার ব্যবহার করতে হবে এবং কখন ব্যবহার
করতে হয় তা নিয়ে।
পুঁইশাক রোপন করার 12 দিনের মাথায় ইউরিয়া এবং বয়স যখন 30 থেকে 40 দিন হবে তখন
জাপান সারের পাশাপাশি জৈব সার এবং সরিষার ফুল সার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
পুঁইশাকে কীটপতঙ্গের আক্রমণ অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম হয় তবুও কীটপতঙ্গের আক্রমণ
থেকে রক্ষা পেতে হলে ক্লোরোপেরিফস 50 পার্সেন্ট এই কেমিক্যাল টি পানির সাথে
মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
বর্ষায় বেগুন চাষ
বর্ষাকাল বেগুন চাষের জন্য অন্যতম উপযুক্ত সময়। বর্ষায় বেগুন চাষের জন্য উন্নত
মানের হাইব্রিড চারা নির্বাচন করতে হবে। বেগুনের জাত অনেক রকমের হয়ে থাকে এদের
মধ্যে বিশেষ কয়েকটি জাত নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব যেগুলো বর্ষাকালে চাষাবাদের
জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং লাভজন।।এদের মধ্যে অন্যতম বারি বেগুন ৮ । এই প্রজাতির
বেগুনের গাছগুলো মাঝারি হয় এবং বেগুন মাঝারি হয় ফলে এই ধরনের বেগুনের চাহিদা
বাজারে অত্যন্ত বেশি। সাধারণত তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে গাছ থেকে ফল পাওয়া
যায়।
চাষাবাদ করা হয় এর চামড়া অনেক পাতলা এবং দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় এর চাহিদা
অনেক রয়েছে তাছাড়া খেতে অনেক সুস্বাদু নয়ন তারা বেগুন উন্নত ফলনশীল বেগুনের
মধ্যে অন্যতম হলো নয়ন তারা বেগুন এই বেগুনের আকৃতি অনেকটাই গোলাকার এবং সুস্বাদু
এই বেগুনগুলো উত্তর অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করা হয় ।নয়ন তারা
বেগুনের জাত কীটপতঙ্গ মোকাবেলা অন্যান্য জাতের তুলনায় শক্তিশালী।
লাল শাক চাষ
লালশাক অত্যন্ত জনপ্রিয় ফসল। বর্তমানে সারা বছরই লাল শাক চাষের জন্য উপযোগী।
বিশেষ করে বর্ষাকালে লাল শাক উৎপাদন করে অনেক টাকা পয়সা উপার্জন করা যা। তবে
খেয়াল রাখতে হবে যাতে পানি না উঠে যায় অর্থাৎ শুষ্ক এবং উচ্চ স্থান নির্বাচন
করতে হবে। লালশাকের বীজ রোপন করর পর তিন সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন করা সম্ভব। লাল
শাক চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাটি হল বেলে দোয়াশ মাটি তবে দেখা যাচ্ছে এটেল
মাটিতেও লাল শাকের ভালো উৎপাদন হচ্ছে।
লাল শাকের কয়েকটি উন্নত মানের জাতের মধ্যে রয়েছে আলতা, ললিতা, রক্ত জবা। এ সকল
লাল শাকের জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য এদের কাণ্ড নরম এবং উজ্জ্বল লাল রং বিশিষ্ট।
ফলে বাজারে এই সকল জাতির লাল শাকের প্রচুর চাহিদা রয়ে। লালশাক চাষের জন্য মাটি
তৈরি নিয়ে আলোচনা করা যাক, লাল শাক চাষের জন্য মূলত সারি সারি ভাবে চাষ করা হয়।
লাল শাক রোপনের আগে মাটি তৈরি করার জন্য ভালোভাবে চার থেকে পাঁচটি চাষ দিয়ে মই
দিতে হবে।
এরপরে সারি থেকে সারি 20 সেন্টিমিটার দূরত্বে বীজ বপন করতে হবে। সমস্ত
জায়গা জুড়ে বীজ রোপন করা হয়ে গেলে পুরো জমির উপর ছাই বিছিয়ে দিতে হবে এতে করে
লাল শাকের বৃদ্ধি অনেক দ্রুত হবে। লাল শাকের জমিতে সঠিকভাবে সার প্রয়োগ করলে আরো
ভালো ফলাফল নিশ্চিত হবে। লাল শাকের জমিতে প্রতি হেক্টর প্রতি গোবর ১০ টন ইউরিয়া
১২৫ কেজি টিএসপি ৭৫ কেজি এবং এমওপি ১০০ কেজি প্রয়োগ করতে হবে। সঠিকভাবে সার
প্রয়োগ রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৫০০ কেজি
পর্যন্ত লাল শাক উৎপাদন করা সম্ভব।
শেষ কথা
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। বাংলাদেশে ছয় ঋতুর প্রত্যেক ঋতুতে আলাদা আলাদা ফসল
চাষ করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয় বর্ষাকালে। বর্ষাকালে নানান রকমের
ফসলের চাষের জন্য উত্তম সময় হিসেবে নির্বাচন করা হয়। চাষাবাদের ক্ষেত্রে সেচ বা
পানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু বর্ষাকাল সেহেতু এই সময় পানির
চাহিদা প্রাকৃতিক ভাবেই পূরণ হয়ে যায়।
কিন্তু এর বিপরীতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটা হচ্ছে যখন অতিবৃষ্টি হয় তখন জমিতে
বৃষ্টির পানি জমে ফসলের ক্ষতি করে; তাই বর্ষাকালে যদি উঁচু স্থানে চাষাবাদ করা
যায় তাহলে যে কোন বর্ষাকালীন ফলন খুব সহজে ঘরে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে বর্ষাকালীন
শাক- সবজি চাষের মাধ্যমে স্বল্প খরচে স্বল্প পরিশ্রমে অধিক সফলতা অর্জন করা
সম্ভব।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url